India Life Opinion

ঢিশুম , ঢিশুম আর আরেকবার ঢিশুম (একটি ছোট গল্প )

FacebookTwitterGoogleLinkedIn


ত্যাজনকারী : নিম্নে উল্লেখিত বাদানুবাদ সম্পূর্ণ কাল্পনিক , যদিও বাস্তবের সাথে ইহার পূর্ণরূপে সাদৃশ্য আছে (গল্প হইলেও সত্যির ন্যায় ) , আমার দোষগুণ মার্জনা করিবেন , না করিলে আপনার সহিত আমার আড়ি ।

গল্প শুরু :
আমি সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত আছি যে আপনি প্রথমেই “ত্যাজনকারী” তে হোচট খাইয়া তারপর বাকি বক্তব্য পরিয়া সম্পূর্ণরূপে হুরমুড়াইয়া পরিয়াছেন।  ত্যাজনকারী কে ইংরিজিতে Disclaimer বলা হইয়া থাকে।  আজকালকার যুগে যেখানে কথায় কথায় ইংরিজি বলিবার চল  হইয়াছে সেইখানে উদ্ভট কিম্ভুত বাংলা বলিয়া লোকদিগকে চমকাইয়া দেওয়া আমার সহস্র কলার একটি , আসক্তি ও বলিতে পারেন।

নিম্নোক্ত ঘটনা পড়িয়া আপনার গাত্র কন্টকিত হইয়া উঠিলে নায়সিল চূর্ণ লাগাইবেন , চায়ের কাপ হইতে চা চলকাইয়া পেয়ালায় পরিয়া গেলে উহা পুনরায় চায়ের কাপে ঢালিয়া লইবেন।  ইহা মাঝদুপুরের এরূপ একটি লোমহর্ষক ঘটনা যাহা নিজ চক্ষে অবলোকন করিয়া (পত্রিকার পাতাতে ) ব্যাকুল হইয়াছিল চিত্ত আর বাড়িয়া গিয়াছিল পিত্ত।

আপনাদের হয়তোবা নকুড়বাবুকে মনে আছে , সেই নকুড়বাবু এই জুন মাসের ভয়ানক  গরমে বাহির হইয়া দুপুরে ভয়ানকরূপে নাজেহাল হইয়া পড়িয়াছিলেন , আর বলিহারি রোদ বাবাজিও নকুড়বাবুর সহিত মস্করা করিতে কম যান নাই , যেই নকুড়বাবু স্বয়ংক্রিয় কোষাধ্যক্ষ যান্ত্রিক ঘরে প্রবেশ করেন , অথবা কোনো চায়ের দোকানের ছায়ায় উপবেশন করেন তখনই রোদেরও তেজ এবং প্রখরতা হ্রাস পায়।

সূর্যের এরূপ বিরূপ আচরণে মর্মাহত হইয়া নকুড়বাবু সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি আজিকের মতো কাজ স্থগিত রাখিয়া গৃহে প্রত্যাবর্তন করিবেন।  গৃহে প্রত্যাবর্তন করিবার সহজতম পথ হইলো ত্রিচক্র যান (যাহাকে অনেকে অটো , টেম্পো বলিয়া থাকেন ) । জ্ঞান পূর্বক নকুড়বাবু গড়িয়াতে অধিষ্ঠিত আছেন ( যদিও নকুড়বাবুর জন্মদাতা বলিতেন যে নকুড়বাবুর জ্ঞান কুড়ির আগে হয়নি কিন্তু তাহা ভিন্ন গল্প )

নকুড়বাবু পথ পরিদর্শন করিয়া হৃদয়ঙ্গম করিলেন পারাপারের জন্য উহাই সময় এবং ক্ষিপ্রবেগে রাস্তা পার করিলেন।  কলিযুগে রাস্তায় কতই না যানজট হইয়াছে।

নকুড়বাবু অবলোকন করিলেন পরিযান সংকেত সবুজ হইয়াছে এবং অন্তত পাঁচটি  ত্রিচক্র যান নকুড়বাবু পশ্চাতে আসিয়া অধিস্টান করিয়াছে।  নকুড়বাবু উহাদিগকে বিনম্রভাবে জিজ্ঞাসা করিলেন যে উহারা গড়িয়া যেতে প্রস্তুত  কিনা।  চারজন তাহাতে ভ্রুক্ষেপ করিলেন না , তাহারা নিজেদের ভেতর বিশ্বপেয়ালা কে জিতিবে সেই তর্কে মত্ত , একজন তা ও নির্লিপ্ত ভাবে উত্তর দিলেন যে উহারা কেহই গড়িয়া যাইবেন না , সবাই বাঘাযতীন যাইবেন।  নকুড়বাবু  বারংবার উহাদিগকে কে জিজ্ঞাসা করিলেন যে গড়িয়াহাট থেকে গড়িয়া লেখা থাকা স্বত্তেও কেন উহারা যাদবপুর হইতে গড়িয়া যাইবেন না  কিন্তু উহারা বিশ্বপেয়ালার আলোচনা লইয়া  ব্যস্ত।

নকুড়বাবু ভয়ানক ক্রোধান্বিত হইলেন।  মুশকিল হইয়াছে নকুড়বাবু ক্রোধান্বিত হইলেও তাহাকে দেখিয়া সেইটা অনুধাবন করা যায়না , নকুড়বাবুর দুগ্ধপোষ্য শিশু পুচকি , নকুড়বাবুর পোষা বেড়াল মিনি কেহই তাহাকে ভয় খায়না , অতএব  ……. নকুড়বাবু আরেকটা ত্রিচক্র যানের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন ।

অন্তত আঁধ ঘন্টা অপেক্ষা করিয়া পরিপূর্ণভাবে রোদাহরন করিয়া অন্তিমকালে (মূর্ছা যাইবার অন্তিম কালে ) নকুড়বাবু এক চালককে পাইলেন যে নকুড়বাবু কে দয়া করিয়া গড়িয়া লইয়া যাইতে সম্মত হইলেন। নকুড়বাবু পুলকিত চিত্তে পান চর্বন পূর্বক কিশোর সঙ্গীত গুনগুন করিতে করিতে গড়িয়া উপনীত হইলেন।  নকুড়বাবু ত্রিচক্র যান হইতে নামিয়া তাহার পরিত্রাতা বাহক কে একটি পঞ্চাশ টাকার পত্র দিলেন , বাহক একবার নকুড়বাবু আর একবার পত্রের দিক চাহিয়া নির্লিপ্ত ভাবে বলিলেন
“খুচরো দিন ”
“খুচরো তো নেই ভাই ”
“সে আমার কাছেও নেই , দেখুন আপনার কাছে হবে”
“নেই ভাই , থাকলে তো দিয়েই দিতাম ”
“তো আপনাকে তো উঠবার সময়েই বললাম যে খুচরো নেই , খুচরো দেবেন ”

নকুড়বাবু আশ্চর্যান্বিত হইলেন , কারণ তাহার ধারণা ছিল উক্ত বক্তব্যের মালিক নকুড়বাবু ছিলেন।
“কি বলছেন দাদা , খুচরো  নেই তো আমি বলেছিলাম , কেন মিছে কথা বলছেন ”
“কি? !!! , আমি মিছে কথা বলছি, আমায় কি@#$%%পেয়েছেন , আপনি ভাবছেনটা  কি, প্রতিদিন এই এক নাটক ভালো লাগে ? আমরা কি %^$$# যে প্রতিদিন একই ব্যাপার সহ্য করবো ?”
“আহা, গালিগালাজ করছেন কেন ”
“তো কি করবো , সকাল থেকে দেখি একই ব্যাপার , সব্বাই বলে  …..
(এইরূপ বাদানুবাদ চলিতেই থাকে , আজকের গরমে হয়তোবা নকুড়বাবুর মস্তকের তাপমাত্রাও বাড়িয়া গিয়াছিলো, নয়তো নকুড়বাবু এরূপ  ব্যবহার করিয়া থাকেন না, গালিয়াগালাজগুলো আপনাদের সবারই জানা, তাই উহার ব্যাপারে আর বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া আবশ্যক নহে )। দিনটা অতিশয় বাজে দিন ছিলো ,নয়তো যখন ত্রিচক্র যানের  বাহক নকুড়বাবু কে গলাধাক্কা দিলেন তখন তাহার গালে কোনো এক রাজনৈতিক দলের নকশা বানাবার ইচ্ছা মনে আসিতনা।

পরেরদিন সকালবেলা
নকুড়বাবু ধীরে ধীরে নেত্র উন্মোচিত করিলেন , তিনি লক্ষ্য করিলেন যে তাহার বাসস্থানের কিছু আভ্যন্তরীন পরিবর্তন হইয়াছে, পরমুহুর্তে তিনি নিজের ভুল বুঝিতে পারিলেন, তিনি হাসপাতালের বিছানায় শায়িত আছেন , অদূরে তাহার স্ত্রী চক্ষু মুদিয়া বসিয়া আছেন।
“পুচকির মা..”
পুচকির মা চোখ খুলিয়া হন্তদন্ত হইয়া ছুটিয়া আসিলেন
“এখন কেমন  লাগছে,কোথাও ব্যথা আছে কি , কিছু খাবে? বসবে ?”
“কি হলো ব্যাপারটা বলো তো , আমি এখানে কিভাবে আসলাম ?”
“আর কি হবে, একে তো খুচরো নেই , তার উপর ওদের সাথে ঝামেলা বাধিয়ে বসেছ, যতক্ষণে পুলিশ পৌঁছলো ততক্ষণে তোমার জ্ঞান হারিয়ে গেছিলো ”
(আরও আরও বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হইলো )

নকুড়বাবু চমতকৃত হইলেন , একটু  দুঃক্ষ মেশানো গর্ব অনুভব করিলেন, দুঃক্ষ  কেননা কখন যে তিনি বাহকের গাত্র স্পর্শ করিয়াছেন তাহা তিনি বেমালুম বিস্মরিত হইয়াছেন , গর্ব কেননা বিস্মরিত হইলেও করিয়াতোছেন।

” আচ্ছা পুচকির মা , শুধু খুচরোর জন্যে কেও কারো উপর হাত তুলে ?”
“কি যে বলো , এ কি নতুন নাকি, গত তিন মাসে এই  সাতবার হলো , আজকাল তো এই হচ্ছে”

নকুড়বাবু আবার নিদ্রাগ্রহন করিলেন, তিনি স্বপ্নে দেখিলেন তিনি খুচরোর ঢিবির উপরে বসিয়া ধরিয়া ধরিয়া লোকেদেরকে পেদ্যাইতেছেন, তিনি রোমাঞ্চ তথা আনন্দ বোধ করিলেন।

Leave a Reply


Your email address will not be published. Required fields are marked *